ইরান যুদ্ধ শেষের আভাসে বিশ্ববাজারে বড় উত্থান

ইরান সংঘাতের উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার জোরালো আশায় গতকাল বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ইতিবাচক বার্তার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসায় তিন বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান রেকর্ড করা হয়েছে।

লেনদেনের শুরুতেই গতকাল ইউরোপের এসটিওএক্সএক্স ৬০০ সূচক ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ভ্রমণ খাতের শেয়ার ৪ শতাংশ এবং অ্যারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। জার্মান বুন্ড (বন্ড) ইল্ডও ৭ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ার সূচক (জাপান ব্যতিরেকে) এদিন ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানান, যুক্তরাষ্ট্র দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর সামরিক হামলা বন্ধ করতে পারে। মূলত ট্রাম্পের এ মন্তব্যই বাজারে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের মুদ্রা কৌশলী রদ্রিগো ক্যাটরিল বলেন, ‘শান্তি বা যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষ এখনো অনেক দূরে। তবে যেহেতু আলোচনা শুরু হয়েছে, তাই বাজার এ বিষয়কে ইতিবাচকভাবে দেখছে।’

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের শক্তিশালী অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এশীয় বাজারগুলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে গতকাল। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ১ ও জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া তাইওয়ানের শেয়ার সূচকও ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর রফতানি মার্চে রেকর্ড ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ায় স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ারদর ১৩ দশমিক ৫ ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

আইএনজির বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে চিপের ব্যাপক চাহিদা ও অনুকূল দামের কারণে রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া কোরিয়ার কারখানা কার্যক্রম চার বছরের মধ্যে দ্রুতগতিতে সম্প্রসারণ হয়েছে।

তবে পুঁজিবাজারে উৎসবের আমেজ থাকলেও সংঘাতের শঙ্কা একেবারে কাটেনি বলে উল্লেখ করেছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন চাইছে দেশটি। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হলে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনরায় পরীক্ষা করে দেখা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের দিকে তাকিয়ে আছেন সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীরা। যেখানে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন কোনো তথ্য আসতে পারে। যদিও এখনো উভয় পক্ষ থেকে হামলা অব্যাহত রয়েছে, তবু আলোচনার টেবিলে বসার ইঙ্গিতই বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করেছে।

আরও